Breaking News

শুধুই একটি হুইল চেয়ারের আকুতি

মো. কাউসার। বয়স ২৫। ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের দেবিরচর এলাকার খলিফা বাড়ির দিনমজুর বাবার সন্তান সে। তবে সংসারে সে যেন এক বোঝা।

মাত্র ১২ বছর বয়সে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে ফেলে শারীরিক সক্ষমতা। এরপর থেকে লাঠির ওপর ভর করেই চলতে হচ্ছে তাকে। লাঠি ভর করেও ঠিকঠাক চলতে পারে না কাউসার। চলতে গেলে বারবার লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। কথাও বলতে পারেন না ভালো করে। প্রতিনিয়তই নিজের সঙ্গে নিজে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন তিনি।

এখন সংসারের কাছেও বোঝা হয়ে আছেন কাউসার। কাউসারের বাবা আবুল কালামও একজন দিনমুজর। অন্যের ক্ষেত-খামারে কাজ করে সংসার চালান তিনি। মানুষের কাজ শেষে বাড়ি এসে কাউসারকে পরিচর্যা করতে হয় তার।

সন্তান কাউসারের জন্য একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, খুব ছোট বেলায় কাউসারের মা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে সংসারে তিন ছেলে রেখে মারা যান। এরপর থেকে তিন সন্তানকে অনেক কষ্ট করে বড় করতে হয়েছে। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে আলমগীর ও মেজ ছেলে এই কাউসার হয়ে যায় প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে ফোরকান ভালো আছে। তবে সে বিয়ে করে এখন ভিন্ন সংসার করছেন। আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয় না। বড় ছেলে আলমগীর ঢাকায় থাকে। সেখানে ভিক্ষা করে সে। মেজ ছেলে কাউসারকে নিয়ে এখন আমার কষ্টের শেষ নেই।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত কাউসারের দেখাশোনা করতে হয় আমাকে। লাঠি ভর করে গিয়ে মানুষের কাছে হাত পাতে। ঠিকঠাক চলতে পারে না কাউসার। কিছুক্ষণ পরপরই মাটিতে পড়ে যায়। মাঝে মাঝে পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড আঘাত পায়। অনেক সময় আবার পড়ে গিয়ে প্রচুর র'ক্তক্ষরণও হয়। এমন অবস্থায় কেউ যদি কাউসারকে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমার এই ছেলেটি একটু ভালোভাবে চলতে পারবে। তাই আমি সমাজের বিত্তবান ও কর্তৃপক্ষের কাছে একটি হুইল চেয়ারের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলেন, আপনার মাধ্যমেই আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিগগিরই একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।

Check Also

“বিশ্ববাজারে” স্বর্ণের ধস, ব্যাপক অস্থিরতা

“বিশ্ববাজারে” স্বর্ণের ধস, ব্যাপক অস্থিরতা! গত সপ্তাহজুড়ে বি,শ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। হঠাৎ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.