Breaking News

অভিনয় ছেড়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি, কোরআন হাদিস পড়ছি: এ্যানি খান

অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিলেন মডেল ও অভিনেত্রী এ্যানি খান। দীর্ঘ ২৩ বছরের মিডিয়া ক্যারিয়ারের পাঠ শেষ করতে চলেছেন তিনি। এরপর একজন সাধারণ ধার্মিক মানুষ হিসেবে বাকি জীবন কা’টানোর পরিক’ল্পনা নিয়েছেন। শনিবার গণমাধ্যমকে নিজের অভিনয় ছাড়ার বিষয়টি নি’শ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী।

এ্যানি খান বলেন, ‌”গত বছর থেকে মিডিয়া ছাড়ার পরিক’ল্পনা করছি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নিজের মধ্যে সিদ্ধান্তটা বেশি করে নাড়া দিতে থাকে। মার্চের ১৯ তারিখ শেষবার শুটিং করেছি। তারপর করোনায় সবকিছু বন্ধ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি,

নফল নামাজ পড়ছি, কোরআন হাদিস পড়ছি। অনেক কিছু থেকে পিছিয়ে ছিলাম শিখছি। আর মিডিয়া আমাকে টানছে না, তাই এই পেশা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।”

এ্যানি খান আরও বলেন, ”প্রতিদিন মৃত্যুর খবর যেভাবে শুনছি, এত মৃত্যুর খবর আগে শুনিনি। এরমধ্যে আমার বাবাকে হারিয়েছি, আরও অনেক কাছের মানুষ চলে যাচ্ছে। আমি একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় বিষয়গুলো যতোই জানার চেষ্টা করছি ততই ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান বাড়ছে।”

বলেন, ”এতে করে অনেক কিছুতে বিধি’নিষে’ধ চলে আসছে। দু মিনিট পরে আমি বাঁচবো কিনা জানিনা। মৃত্যুর পরে অনন্ত কালের জন্য আমি কি সঞ্চয় করলাম? এ সবকিছু চিন্তাভাবনা মিলিয়ে আমি আর মিডিয়ার কাজে ফিরতে চাইছি না। এজন্য কেউ আমাকে ভণ্ড বলতে পারেন, খারাপ বলতে পারেন। তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।”

এ্যানি খান অভিনীত পাঁচটি সিরিয়াল বিভিন্ন টিভিতে প্রচার হচ্ছে। আর কাজে ফিরতে চান না তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে কাজ শুরু করেছিলেন এ্যানি খান। অনেক বিজ্ঞাপন ও নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকাতে নিজেদের বাড়িতে বসবাস করছেন। আগামী বছর বিয়ের পরিক’ল্পনা করেছেন। মিডিয়া থেকে দূরে সরে এক অন্যরকম নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

করোনায় আবারো ৩ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন ডিপজল!

মনোয়ার হোসেন ডিপজল একজন খল অভিনেতা হিসেবে আলোচিত-সমালোচিত যেমন; আবার ‘চাচ্চু’ ধরনের সিনেমার জন্য নিজের অন্য একটি চেহারাও দৃশ্যমাণ করেছেন দেশীয় চলচ্চিত্র দর্শকদের মাঝে।

আর ব্যক্তি ডিপজল কেমন? সেটা হয়তো আপেক্ষিক। কখনো ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে সমালোচিত হয়েছেন আবার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসাও পেয়েছেন। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের অনেক তারকাই এগিয়ে আসেন। আবার অনেক শীর্ষ তারকারাও কোয়ারেন্টিন থেকে আলোর মুখ দেখেননি।

অর্থাৎ মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। দেশীয় চলচ্চিত্রের শীর্ষ তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন চিত্রনায়ক এ জন্য নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখেও পড়েন। তবে এদিক থেকে একজন খল অভিনেতা হয়েও মনোয়ার হোসেন ডিপজল ছিলেন অনন্য। গত রমজান মাসে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে ডিপজল নগদ দুই লাখ টাকা প্রদানসহ ৬ দফা শিল্পীদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন।

‘শিল্পী সমিতিতে তো অল্প কয়েকজন মানুষ, ৩০০-৪০০ হইবো। ওইটা কোনো সমস্যা না। শিল্পী গো লিগা সমস্যা হইবো না। তয় আমি আমার এলাকায় যতটুক পারছি দিছি। এহন তো দুর্যোগ তেমন নাই। আবার মানুষজন বিপদে পড়লে আমি হেল্প করমু’- কালের কণ্ঠের সাথে আলাপকালে এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন করোনাকালের সহায়তা সম্পর্কে।

ডিপজল বলেন, ‘আল্লাহ আমারে যতটুকু দিছে আমি সেইখান থিকা যতটুকু পারমু দিমু। সামনে কুরবানি আইতাছে। এইবার বেশি কুরবানি দিমু না। যতটুক না দিলেই হয় না, ততটুক দিমু। তয় এই ভাইরাসের কথা তো কওন যায় না। কুরবানির আগে যদি চইলা যায় তয় এইবার আমি আরো বেশি কইরা কুরবানি দিমু। গরু রেডি রাখছি, হয়তো আরো কিছু কিনতে হইবো।’

ডিপজল সহায়তা করেছেন মিরপুর, গবতলী এলাকার ( ঢাকা উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড) দেড় হাজার পরিবারকে। কার্যত লকডাউনের সময় প্রতিটি পরিবারকে ৬ দফা সহায়তা করেছেন। যার প্রতিটি দফায় ৫ কেজি চাল, ডাল, লবণ ও আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিসঅপত্র দিয়েছেন। একইভাবে দেড় হাজার পরিবারকে সসহায়তা দিয়েছেন সাভারের ফুলবাড়িয়া এলাকায়।

ডিপজল বলেন, ‘আসলে ভাই আমি তো শুধু চলচ্চিত্রের মানুষের কথা ভাবতাছি আর অন্য মানুষের কথা ভাবতাছি না, এমুন তো না। আমি আমার এলাকার মানুষজনের পাশে সব সমায় ছিলাম, আছি। দ্যাশের মানুষ আমারে অভিনেতা হিসাবে চিনে।, কিন্তু আমি তৈ জনগণের প্রতিনিধি আছিলাম।

তাগো লিগা তো আমার কর্তব্য আছে। সাভারের ফুলবাড়িয়া এলাকায় আমার শুটিং স্পট আছে। তার আশেপাশে খুব বেশি মানুষ নাই। আমি দেড় হাজারের মতো পরিবার পাইছি। তাগো লিগা আমি বিভিন্ন সময় প্রয়োজন মতো চাউল ডাউল পাডাইছি।’ ফুলবাড়িয়াতেও ডিপজল ৬ দফা সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে। যার মধ্যে প্রতি দফায় ৫ কেজি চাল, ডাল, তেল লবণ সহ আনুষাঙ্গিক দ্রব্যাদি ছিল।

চলচ্চিত্র নিয়েও চিন্তিত ডিপজল বললেন, ‘এই সংকট কাইটা যাউক তারপরে দেহা যাউক আমগো ফিল্মের কী হয়। আমি আমার দিক থন সর্বোচ্চ হেল্প করুম।’ ১৫ জুন, ১৯৫৮ সালে ঢাকার মিরপুরের বাগবারিতে জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। তিনি ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া সিনেমা হল, পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস,

পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সক্রিয়। প্রথমে খল চরিত্রে অভিনয় করলেও চাচ্চু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ভালো চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এছাড়াও মা-বাবাকে হারানোর বেদনা থেকে তিনি একটি বৃদ্ধাশ্রমও গড়ে তুলেছেন।

Check Also

শেষ সম্বল ভিটে-বাড়ির ৪ শতক জমি মসজিদের নামে দান করলেন ভিক্ষুক দম্পতি

মসজিদে জমি দান করে সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক ভিক্ষুক দম্পতি। এই ভিক্ষুক দম্পতির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *