বিশ্বব্যাপী ফ্রান্স পণ্য বয়কট, একদিনেই ক্ষতি ২৮ বিলিয়ন ডলার!

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি প্রিয় রাসুলুল্লাহ সা. ও তাঁর পরিবার এবং ব্যক্তিজীবনকে কটাক্ষ ও বিদ্রুপ করে স্যাটানিক ভার্সেস (১৯৮৮ খৃষ্টাব্দে) রচনা করায় ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের ফাতওয়া জারি করেছিলেন।

সেই ফতওয়াকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ খৃষ্টাব্দ ও তার পরবর্তি সময়কালে বেশ ক’টি বছর পুরো পশ্চিমা, তথা, খৃষ্টবিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। বাকস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, আধুনিকতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া হিসেবে দেখা হয়। পৃথিবীর অনেক দেশ ইরানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কুটনীতিতে ঝড় বয়ে যায়। একেবারে সম্মুখসারী থেকে নেতৃত্ব দেয় ব্রিটিশ সরকার। তারা সরকারিভাবে সালমান রুশদিকে চব্বিশঘন্টা প্রোটেকশনও দিতে থাকে।
তার মাত্র বছর চারেক আগে যুক্তরাজ্যের একজন চৌকষ গোয়েন্দা পিটার রাইট (Peter Wright) একটা বই লেখেন।

‘Spycatcher: The Candid Autobiography of a Senior Intelligence Officer’ নামের বইটা অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৯৮৭ খৃষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো প্রকাশ হয়। উক্ত বইতে পিটার ব্রিটিশ সরকারের অনেক গোপন কুকর্ম ফাঁস করে দেন। তার মধ্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট নাসেরকে হ'ত্যার ব্যাপারে ব্রিটেনের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের ইতিবৃত্তও ছিল। ব্রিটিশ সরকার বইটি প্রকাশের আগেই সেটাকে বন্ধ করতে সক্ষম হন আদালতের মাধ্যমে।

লেখক বইটা অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশ করেন। বইয়ের অনেক তথ্য ব্রিটেনের পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হতে শুরু করলে মার্গারেট থেচারের সরকার আদালতের মাধ্যমে তার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করান।

যে ব্রিটিশ সরকার নিজের দেশের একজন নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এভাবে খর্ব করেছে, সেই ব্রিটিশ সরকারই সালমান রুশদির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার নামে বিশ্বের দেড়শত কোটি মুসলমানের প্রাণের স্পন্দন নবী মুহাম্মদ সা: কে অবলীলায় অপমান করার অধিকার দিতে উঠে পড়ে লেগেছিল।

সে সময়ে সারা বিশ্বের প্রচার মাধ্যমজুড়ে নিরন্তর প্রচারণা চলতে থাকে যে, ‘ইসলামের সাথে আধুনিক বিশ্বের সহবস্থান যে সম্ভবপর নয়’, ‘ইসলাম যে কট্টরবাদী ও সহিংস এবং বর্বর ও মানবতাবিরোধি একটা দর্শন’, ‘মুসলমানরা যে আধুনিক সভ্যতার সাথে মানিয়ে চলার উপযোগী নয়’, ‘ইসলামের যে আমূল সংস্কার প্রয়োজন’ এটাই তার প্রমাণ!

এ সময় প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে বসবাসরত অনেক মুসলমানও পশ্চিমা সভ্যতার সাথে সহাবস্থানের জন্য এই ফাতওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এমনকি, কোন কোন মুসলমান নামধারী লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবিরা বাকস্বাধীনতার নামে সালমান রুশদীর পক্ষাবলম্বনও করে।

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয়টি ছিল, এক ইরান ছাড়া ইসলামি সংস্থার ৪৫ টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশই এই ফতওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কোন মুসলিম দেশই সরকারিভাবে ঐ ফতওয়াকে সমর্থন করেনি।
কিন্তু তারপরেও কাজ হয়েছে। বরং বলা চলে, এক বিরাট কাজ হয়েছে। পুরো খৃষ্টবিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ভাবতে শুরু করে মুসলমানদের কাছে দেড় হাজার বছর আগে মৃত একজন আরববাসী প্রফেটের আজও এমন কি প্রভাব রয়ে গেছে যার জন্য তারা এতোটা মরীয়া হতে পারে?

সারা খৃষ্টবিশ্বজুড়ে কুরআন ও তার নবী মুহাম্মদ সা. কে জানার জন্য মানুষ উঠে পড়ে লাগে। ওরিয়েন্টালিস্টদের অনেকেই সে সময় কালোত্তীর্ণ গ্রন্থ ও গবেষণাপত্র রচনা করেন। এর মাত্র একটা যুগ পার না হতেই এলো ২০০১ এর সেপ্টেম্বরের সেই কুখ্যাত ‘নাইন ইলেভেন’।

সারা বিশ্বজুড়ে যেন আ'গুনে ঘি ঢালা হলো। বিশ্বাস করুন, ঐ সময় আমেরিকার বুকস্টোরের তাকসমূহে কুরআনের কপি রাখতে না রাখতেই তা বিক্রি হয়ে যেতো।দেখতে দেখতে আল কুরআন বেস্ট সেলারের তালিকায় উঠে এলো। রাসুল সা: এর জীবনী পড়া ও জানার জন্য পশ্চিমা খৃষ্টানরা মুখিয়ে উঠলো। তার ফল ফলেছে চমকপ্রদ। নাইন ইলেভেনের পরবর্তি একটি বছরেই আমেরিকায় ৪৬ হাজার খৃষ্টান আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করে!

আজও হাতে গোনা দু’চারটি মুসলিম দেশের সরকার ছাড়া আর কোন মুসলিম দেশ সরকারিভাবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু আপনি, আমি, আমরা আমজনতা যদি এই প্রতিবাদ ও বয়কটকে চালিয়ে নিতে পারি, সবাই মিলে ফ্রান্সের এবং যে কোন ইসলামবিরোধি দেশ ও সমাজের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে ঝাঁকুনি দিতে পারি, তবে দেখবেন কি ম্যাজিকের মতো ফল হয়।

এক সুত্রে (American Muslim Facebook page) আজ দেখলাম মাত্র এই ক’দিনের বয়কটে ই ফরাসি স্টক মার্কেট থেকে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারিয়ে গেছে। এটাই হলো আমাদের শক্তি। সবলের বিপক্ষে দূর্বলের সামষ্ঠিক শক্তি।

বর্তমান পশ্চিমা ও পূঁজিবাদী বিশ্বের প্রাণভোমরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভোগবাদীতার মধ্যে লুকায়িত রয়েছে। এই প্রাণভোমরাটাকে চেপে ধরুন। ওদের স্টক মার্কেটে ধ্বস নামাতে হবে। তা হলে খুব শীঘ্রই দেখবেন বিষ্ময়কর ফল ফলতে শুরু করেছে।

এটা আমাদের যোগ্যতার কারিশমা নয়, বরং এটা খোদ আল্লাহই করবেন তাঁর প্রিয় রাসুল সা: এর ইজ্জতের শানে। আমার, আপনার বা আমাদের লাভ হলো, এ প্রতিবাদকে চালু রেখে সেই ঐতিহাসিক কারিশমার অংশ বনে যাওয়ার মাধ্যমে নিজেদের কল্যাণটাকেই নিশ্চিত করা।
আহা উম্মাহ যদি এটা বুঝতো!

Check Also

স্কুল ড্রেসে দুর্দান্ত ড্যান্স দিয়ে ঝড় তুললো ছাত্রীরা, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় কোন কিছুই ভাইরাল হতে বিশেষ সময় লাগে না। ভালো হোক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *