কেউ ফোন-ম্যাসেজের রিপ্লাই না দিলে কি করা উচিত? জে’নে নিন সহজ উপায়

যোগাযোগের প্রভূত উন্নতি সাধনের ফলে এখন আম’রা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেকোরো সাথে নিমিষেই যোগাযোগ স্থাপন ক’রতে পারি। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার ক’ল্যাণে এটি আরো সহজ হয়েছে। কিন্তু প্র’যুক্তির ভুল ব্যবহার অনেক স’ম্পর্ক ন’ষ্টও করে দিচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো কারো ফোন না ধ’রা কিংবা ম্যাসেজে’র রিপ্লাই না দেওয়া। আমাদের প্রায় সবাই প্রাত্যহিক বিষয়টির সাথে কমবেশি পরিচিত। অনেক একবার ফোন না ধ’রলে কা’ঙ্খিত ব্য’ক্তিকে অনবরত ফোন বা ম্যাসেজ দিতেই থাকেন। অনেক সময় ফোন না ধ’রাকে কে’ন্দ্র করে দুই ব্য’ক্তির মধ্যে স’ম্পর্কের চরম অবনতি হয়। এমনকি মা’রামা’রি ও খু’নোখু’নির ঘ’টনাও ঘ’টে থাকে। তাই চরম প’রিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ার আগেই জে’নে নেওয়া যাকে কিছু বিষয়:

প্রথম কথা হচ্ছে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন না ধ’রলে আপনি তাকে হাজার বার ফোন দিয়েও ধ’রাতে পারবেন না-এমন মনোভাব পোষণ করুন। এছাড়া ফোন ছাড়াও যোগাযোগের আরো নানা অনুষঙ্গ আছে। আপনি চাইলেই সব স’মস্যার সমাধান ফোন দিয়ে ক’রতে পারবেন না। তাই কাউকে ননস্টপ কল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ক. কেউ যদি আপনার ফোন বা ম্যাসেজে’র রিপ্লাই না দেন তাহলে প্রথমেই ধারণাপ্রসূত নেতিবাচক সি’দ্ধান্তে না এসে তার ব্য’ক্তিত্ব বোঝার চেষ্টা করুন। তার সাথে আপনার স’ম্পর্কের মাত্রা জা’নার চেষ্টা করুন। যেমন ধ’রা যাক: চৌধুরী সাহেবের সাথে আপনার নতুন স’ম্পর্ক। সেখানে প্রথমবার ফোন দেওয়াই যথেষ্ট। ফোন না ধ’রলে ক্ষুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠিয়ে রাখা যেতে পারেন। সুযোগ মতো হয়তো তিনি কলব্যাক করবেন। আবার স’ম্পর্কের মাত্রা অনুযায়ী আপনি চাইলে কাউকে একবারের বেশিও ফোন দিতে পারেন। কারণ আপনারা পরস্পর পরস্পরের দীর্ঘদিনের পরিচিত। এখানে আনুষ্ঠানিকতার কিছু নাই।

খ. স্বল্প বা অপরিচিত কাউকে বিরতিহীন কল দেওয়া বা ম্যাসেজ পা’ঠানো ও প্রান্তের ব্য’ক্তির কাছে নাইটম্যায়ার বা আ’তঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়। বিশেষ করে গ’ভীর রাতে কাউকে ফোন দিলে এমনটি হয়। প্রথমবার ফোন না ধ’রলে বেশি প্রয়োজন হলে ম্যাসেজ দিন বা আশেপাশে পরিচিত কারো দ্বারা খোঁ’জ নিন।

গ. বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় ননস্টপ কলের এক পর্যায়ে ব্য’ক্তি ফোন ধ’রলে বা পরে অনেকগুলো মিসড কল দেখে কলব্যাক করলেও দুইজনের মধ্যকার আলাপ’চারিতা ব’ন্ধুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। যাকে কল দিয়েছেন তিনি বির’ক্তি প্র’কাশ ক’রতে পারেন। তাই ননস্টপ কল দেওয়ার বদাভ্যাস ত্যা’গ করুন। কারণ কে জানে আপনি যাকে কল বা ম্যাসেজ দিচ্ছেন তিনি হয়তো ফোনের কাছেই নেই।

ঘ. অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা বা কল দেন। সেক্ষেত্রে অল্পপরিচিত বা অপিরিচত কাউকে অনুমতি ছাড়া ভিডিও বা অডিও কল না দেওয়াই ভদ্রতা। আবার ইনবক্সে কেউ ম্যাসেজ পাঠালে সেটি দেখে রেখে দিলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। উত্তর না দিলে প্রেরক মনে ক’রতে পারেন তাকে ইগনোর বা পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না। এ থেকে স’ম্পর্কে ফাটল ধ’রতে পারে।

ঙ. কেউ ফোন না ধ’রলে সাক্ষাতে বা পরবর্তী কলে আগের ফোন না ধ’রার কারণ জানতে চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না। এতে ব্য’ক্তি বিব্রত বা লজ্জিত হতে পারেন। কথা বলার মাঝে প্রসঙ্গক্রমে ইতিবাচকভাবে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এটি নির্ভও কওে উপস্থাপনার ওপর।

চ. যদি কেউ একটা লম্বা সময়ের জন্য ফোন না ধ’রেন তাহলে বি’পদ আঁচ করে তার খোঁ’জ নিন। ব্য’ক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যান তাহলে ভিন্ন কথা। তাহলে কারণ অনুসন্ধান করে সমাধান খুঁজুন। অযথা ফোন না ধ’রলে বুঝতে হবে ব্য’ক্তি স’ম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী নয়। এমন ব্য’ক্তির সাথে স’ম্পর্ক রাখার ব্যাপারটি আপনিও পুনর্বিবেচনা ক’রতে পারেন। কারণ একটা স’ম্পর্ক আগায় পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে।

ছ. কেউ যদি আপনার ফোন না ধ’রেন তাহলে সেকথা অন্যের কাছে বলে বেড়ানো উচিত না। ফোন না ধ’রা ব্য’ক্তি পরবর্তীতে জানতে পারলে আপনার স’ম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ ক’রতে পারেন।

জ. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একপেশে কাউকে ফোন বা ম্যাসেজ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ভার্চুয়াল মানুষটিকে বাস্তবজীবনে জা’নার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ব্য’ক্তি মানুষের ওপর ভিত্তি করে তার ভার্চুয়াল ভাবমূর্তি গড়ে উঠে। আপনাকে পাত্তা দেওয়ার মতো ইতিবাচক কাজ ক’রতে থাকুন দেখবেন ঠিকই একদিন সে আপনাকে খুঁজে নেবে। অযথা সারাদিন অনলাইনে প’ড়ে থেকে অন্যের বির’ক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন না।

পরিশেষে একবার ভাবুন তো এত্তোসব প্র’যুক্তির সুবিধা যখন ছিল না তখনও কিন্তু সমাজ ছিল, স’ম্পর্কগুলো টিকে ছিল। সেটির মাত্রা কেমন ছিল এটি বিত’র্কের বিষয়। কারণ এখন মানুষ ভার্চুয়াল জগতের সাথে এতোটাই আসক্ত হয়ে প’ড়েছেন যে বাস্তব জগত থেকে অনেকটাই দূ’রে সরে গেছেন। এই অতি আসক্তি সামাজিক অস্থিরতা ও হ’তাশা বাড়াচ্ছে। তাইতো বর্তমান বিশ্বের এখন কেউ কেউ ইন্টারনেটবিহীন আগের জগতে ফি’রে যেতে চাচ্ছেন। এই সংখ্যাটাও কিন্তু কম না।

Check Also

হটাত করে নাক-কান-গলায় কিছু ঢুকে গেলে কী করবেন? জেনে রাখুন।

অনেকসময় না বুঝেই শিশুরা কিছু জিনিস নাক-কান কিংবা গলায় দিয়ে ফেলে। অনেক সময় তা বিপজ্জনকও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *