কিছুদিন ছিলাম সা’কিবের স’ঙ্গে, এখন বিল্লালের কাছেই ফিরতে চাই: প্র’বাসীর স্ত্রী

প্রবাসী স্বামীর ঘর ছেড়ে বাসা বাঁধেন প্রেমিকের সঙ্গে। স্বামী দেশে ফেরার পর স্ত্রীকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি। বাধ্য হয়ে আইনের দ্বারস্থ হন।

পরে প্রেমিকসহ স্ত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এমনই ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নসিবদী গ্রামে। অভিযুক্ত শাহিদুন আক্তার চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার গালিম খাঁ এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের মা।

২০১৩ সালে দাউদকান্দির নসিবদী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে শাহিদুন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাতারে চলে যান বিল্লাল। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ছুটিতে ফেরেন তিনি। এরপর আবার বিদেশে পাড়ি জমান।

স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর গ্রামের মো. সাকিবের সঙ্গে মুঠোফোনে সম্পর্ক হয় বিল্লালের স্ত্রী শাহিদুন আক্তারের। এরপর শুরু হয় দুজনের মন দেয়া-নেয়ার পালা। মন দেয়া শুরু হয় দেহদান। স্ত্রী শাহিদুন আর সাকিবের এমন সম্পর্ক অজানাই থেকে গেল প্রবাসী বিল্লালের।

২০২০ সালের নভেম্বরে কাতার থেকে দেশে ফেরেন বিল্লাল। বাড়ি ফিরে তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে পাননি তিনি। শ্বশুরবাড়িতেও নেই। এ ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় তিনি একটি নিখোঁ’জ ডায়েরি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়িতে কথিত স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী শাহিদুনকে পান বিল্লাল। এ ঘটনার পর গত রোববার মতলব উত্তর থানা পুলিশের সহায়তা চান বিল্লাল। পরে শাহিদুন ও তার প্রেমিক সাকিবকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এদিকে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধলেও এখন অস্বীকার করছেন শাহিদুন। আদালতে দেয়া এক জ’বানবন্দিতে শাহিদুন আক্তার বলেন, বিয়ে নয় কিছুদিনের জন্য সাকিবের সঙ্গে একত্রে ছিলাম মাত্র। তবে এখন সন্তানদের নিয়ে আগের স্বামী বিল্লাল হোসেনের কাছেই থাকতে চাই।২৮ ডিসেম্বর বিকেলে চাঁদপুরে বিচারিক হাকিম মো. হাসানুজ্জামানের আদালতে এমন স্বীকারোক্তি দেন শাহিদুন।

ওই দিন সন্ধ্যায় মতলব উত্তর থানার ওসি নাসিরউদ্দিন মৃধা বলেন, প্রথম স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহিদুন আক্তার ও তার প্রেমিক মো. সাকিবকে থানায় আনা হয়। এদিন বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বিচারিক হাকিম মো. হাসাদুজ্জামানের আদালতে জবানবন্দি দেন শাহিদুন।

ওসি বলেন, অন্যের সঙ্গে কিছুদিনের জন্য ঘর বাঁধলেও আগের স্বামী বিল্লাল হোসেনের ঘরে ফিরতে চান শাহিদুন। তবে কিছুদিন একসঙ্গে থাকলেও সাকিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি বলে আদালতে স্বীকার করেছেন। নাসিরউদ্দিন মৃধা আরো বলেন, গৃহবধূ শাহিদুন আক্তারকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যের স্ত্রী ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগে সাকিবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Check Also

চাকরি ছেড়ে করছেন মাশরুমের চাষ, বার্ষিক আয় ৫ কোটি টাকা

আমরা সবাই লকডাউনের সময় দেখেছি, আমাদের রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে চাকরি পেতে কতটা সমস্যার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *