কবরস্থানে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ, যেতেই যা দেখল গ্রামবাসী

রাত তখন ১০টা। গ্রামের সবাই ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই গ্রামের কবরস্থান থেকে ভেসে আসছিল কান্নার আওয়াজ। বিড়াল ভেবে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কান্নার আওয়াজ বাড়তে থাকলে কবরস্থানে যান আশপাশের লোকজন। আর যেতেই দেখলেন কবরস্থানে কাঁদছে ফুটফুটে নবজাতক।

ঘটনাটি সুনামগঞ্জের। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরতলির ইব্রাহিমপুর গ্রামে কবরস্থান থেকে নবজাতটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক।

স্থানীয়রা জানায়, রাতে হঠাৎ কবরস্থান থেকে শিশুর কান্না ভেসে আসছিল। অনেকে আবার বিড়ালের ডাক মনে করেছিলেন। কিন্তু কান্নার আওয়াজ বাড়তে থাকলে কৌতূহলবশত কবরস্থানে যান আশপাশের লোকজন। পরে একটি নবজাতককে দেখে তাকে উদ্ধারের পর পুলিশে খবর দেন তারা। এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

কবরস্থানের পাশের বাসিন্দা তাছলিমা আক্তার বলেন, হঠাৎ রাতে নবজাতকের কান্না কানে আসছিল। এগিয়ে গিয়ে দেখি নবজাতক কাঁদছে। গ্রামের লোকজন জড়ো হলেন। পরে সবাই মিলে শিশুটিকে গোসল করানোর পর নেয়া হয় হাসপাতালে।

শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মা ও শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী স্মৃতি আক্তার। তবে কবরস্থানে ফেলে যাওয়া শিশুর দায়িত্ব নিতে আগ্রহ জানিয়েছেন অনেকে।

পাঁচ সন্তানের জননী রাশেদা বেগম বলেন, কেউ না নিলে আমি শিশুটিকে নেবো। আমার পাঁচ সন্তানের সঙ্গে আরেক সন্তান বড় হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ নবজাতক প্রয়োজনে আমার এবং স্ত্রীর পরিচয়ে বড় হবে। যা যা প্রয়োজন সবই করবো।

সদর থানার এএসআই সোহেল আহমদ বলেন, নবজাতককে বাঁচাতে হাসপাতালে নেয়াসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুতে সহায়তা করা হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। নবজাতকের চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে শিশুটি কোথায় থাকবে ঊর্ধ্বতনরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

Check Also

যে কারণে উধাও হলো বগুড়ার সেই পুকুরের মাছ-পানি

দীর্ঘ বছরের পুরোনা পুকুর। হঠাৎ কী এমন হলো যে নিমিষেই পানি ও মাছ শূন্য হয়ে …