যে কারণে উধাও হলো বগুড়ার সেই পুকুরের মাছ-পানি

দীর্ঘ বছরের পুরোনা পুকুর। হঠাৎ কী এমন হলো যে নিমিষেই পানি ও মাছ শূন্য হয়ে পড়ল পুকুরটি। একই সঙ্গে বেরিয়ে এলো একটি সুড়ঙ্গ। ওই গর্তেই উধাও হয় পানি ও মাছ। এমন অলৌকিক ঘটনায় হতবাক গ্রামবাসী।

ঘটনাটি বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের বাগইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের। এ নিয়ে পুরো জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। তবে বিষয়টি নিয়ে যেন গুজব না ছড়ায় এজন্য সতর্ক বার্তা দিয়েছে পুলিশ।

হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটল এ বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক আবু সাঈদ।

তিনি বলেন, ভূগর্ভ থেকে কিছু উত্তোলন করলে ওই স্থান শূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণে পানি বা মাটি দিয়ে উত্তোলনের স্থান পূরণ করে দিতে হয়। ওই পুকুরে সৃষ্ট গর্তকে সিংক হোল বলা হয়। মাটির নিচের পানির সঙ্গে ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় ক্ষয় হয়। এখান থেকেই গর্তের সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট গর্ত অনেক গভীরও হতে পারে। সেই গর্তকেই বলে সিংক হোল বা বিশাল আয়তনের গর্ত।

প্রভাষক আবু সাঈদ বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে খনিজ পদার্থ দ্রবীভূত হয়। শিলা দ্রবীভূত হলে মাটির নিচে ফাঁকা জায়গা বাড়ে। একপর্যায়ে মাটির উপরিভাগের ভার অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। ফলে যেকোনো সময় উপরিভাগের ভূমিধস ঘটে সিংক হোল সৃষ্টি হয়। এমনটাই হয়েছে বগুড়ার কাহালু উপজেলায়।

পুকুরের মালিক নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল লতিফ বলেন, ওই পুকুর থেকে বালু তোলা হয়েছিল। এ কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে থেকেই পুকুরের পানি ওঠানামা করতে থাকে। এর মধ্যে ১৮ জুলাই বিকেলে পুকুরের পানি লাফিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করে। যা দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরদিন পুকুরের পানি ও মাছ উধাও হয়ে যায়। এছাড়া পুকুরে দেখা যায় এক বড় গর্ত। ওই গর্ত দিয়েই মাছ ও পানি উধাও হয়েছে। অথচ ১৮ জুলাই রাতেই পুকুরে পানি ও মাছ ছিল। এবার প্রায় চার মণ মাছের চাষ করা হয়েছিল ওই পুকুরে।

একই কথা বলছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিঠু চৌধুরী। তিনি বলেন, ওই পুকুর থেকে বালু তেলার ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে। এক যুগেরও বেশি সময় আগে পুকুর থেকে বালু তোলা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে যেন কেউ গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য সতর্ক বার্তা দিয়েছে কাহালু থানা পুলিশ। কাহালু থানা পুলিশের অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই বার্তা দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে কাহালু থানার ওসি মো. আমবার হোসেন বলেন, মাটির নিচে যেখানে বালু, পাথর, কার্বনেট শিলা, চুনাপাথর ইত্যাদি বেশি পরিমাণ রয়েছে সেখানে সিংক হোল বা বিশাল আয়তনের গর্ত সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। পুকুরে সৃষ্ট গর্ত নিয়ে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ঘটনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই।

Check Also

কবরস্থানে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ, যেতেই যা দেখল গ্রামবাসী

রাত তখন ১০টা। গ্রামের সবাই ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই গ্রামের কবরস্থান থেকে ভেসে আসছিল …