বাংলাদেশকে না দিলেও মালদ্বীপকে পেঁয়াজ দিচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আছে৷ মোট চাহিদার দুই তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় স্থানীয়ভাবে৷ বাকিটা আমদানি করতে হয়৷ প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ দিয়েই ওই ঘাটতি মেটানো হয়৷ কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত।

দেশটিতে পেঁয়াজের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। রাজ্য ভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে ঘাটতির অজুহাতে বাংলাদেশকে পেঁয়াজ না দিলেও মালদ্বীপকে ঠিকই দিচ্ছে ভারত। নিজের দেশে ঘাটতি থাকায় ‘আমদানি করে’ মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশটি।

পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য ভারতের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল মালদ্বীপ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশে পেঁয়াজের সংকট থাকা সত্ত্বেও মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে ভারত। এতে পরিমাণেরও কোনো হেরফের হবে না। আগে দেশটিতে যে পরিমাণ পেঁয়াজ রপ্তানি হতো সেই পরিমাণই রপ্তানি করা হবে পেঁয়াজ।

রোববার (১০ নভেম্বর) মালের ভারতীয় দূতাবাস এক টুইটে তাদের ‘মালদ্বীপীয় বন্ধুদের’ জানায়, পেঁয়াজ সংকটের কারণে এক লাখ টন আমদানি ও মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারত মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রাখবে।

এর আগে গত শনিবার (৯ নভেম্বর) ভারতের খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পস্বন জানিয়েছিলেন, চলমান সংকটের কারণে ভারত এক লাখ টন পেঁয়াজ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করছে।

ভারত পেঁয়াজ পাঠানোয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আফগানিস্তান, তুরস্ক, ইরান ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ভারতও এসব দেশ থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করে তা আবার মালদ্বীপে রপ্তানি করবে বলে বলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের মত। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। স্বল্প দূরত্ব আর সহজলভ্যতার কারণে আমদানির বেশিরভাগটা ভারত থেকেই হয়।

ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।

আর ওই খবরে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে।

দেশের চাহিদা পূরণে ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন বলেছিলেন, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, দাম দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু তার মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা আসে। এ নিয়ে তৈরি হয় নানা আলোচনা। অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালেও এ বিষয়টি ছিল আলোচনার শীর্ষে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করায় বিকল্প উৎস মিয়ানমার, মিসর, চীন ও তুরস্ক থেকে থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এমনকি ব্যবসায়ীরা যদি চায় পাকিস্তান থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করতে পারে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে মিয়ানমার, মিসর, চীন ও তুরস্ক থেকে বেশ কিছু পেঁয়াজ আমদানিও করা হয়েছে।

Check Also

শি’খে নিন ডাল রান্নার পারফেক্ট কৌশল

ডাল তো আপনারা সবাই বাসায় রান্না করেন। অনেকে আবার প্রতিদিনও বাসায় ডাল রান্না করে থাকেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *